ধানক্ষেতে কাঁদছিল কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি পাঠানো হয়েছে ছোটমণি নিবাসে

আমিনুল ইসলাম বাবুল : কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ধানেেত কাঁদছিল কুড়িয়ে পাওয়া ফুটফুটে শিশুটিকে আজিমপুরের ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানো হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ওবায়দা খানম শিশুটিকে আজিমপুরের ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর বিকালে-ই শিশুটিকে সেখানে পাঠানোর প্রস্ততি নেয়া হয়।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এর প্রধান মো. তারেক মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর (রোববার) শিশুটিকে ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিচর্যা ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য তাঁরা ১১টি লিখিত আবেদন পেয়েছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তাড়াইল উপজেলার পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সুফিয়া খাতুন নামে এক নারী তাঁর বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে কান্নার শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে দেখলেন ফুটফুটে সদ্যোজাত শিশুটি। ধানক্ষেতের আলের পাশে কে বা কারা মায়াবি চেহারার সদ্যোজাত এই শিশুটিকে কাপড় মুড়িয়ে ফেলে রেখে যান। সদ্যোজাত ফুটফুটে শিশুটি সেখানে পড়ে রয়েছে। সে সময় সেখানে আরো বেশ কয়েকজন ছুটে গেলেও পরম মমতায় সুফিয়া খাতুন শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির সেবা-শুশ্রƒষা করেন। ধানেেত নবজাতক পাওয়ার খবরে এলাকাবাসী তার বাড়িতে ভিড় করেন।

বাড়িতে নেয়ার পর থেকেই শিশুটি স্নেহ কাড়ে সবার। ঠাঁই পায় এক কোল থেকে আরেক কোলে। ধানেেত পরিত্যক্ত অবস্থায় নবজাতক উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শিশুটিকে (১৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার) দুপুরে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়। হাসপাতালের ভর্তি রেজিষ্টারে শিশুটির নাম দেয়া হয় ‘আবরার ফাহাদ’। অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটির বয়স একদিন বা দেড়দিন ছিল। শিশুটিকে তাদের তাড়াইল হাসপাতালের পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। শিশুটির কোন স্বজন না থাকলেও উদ্ধারকারী নারী সুফিয়া খাতুন পরিচর্যার পাশাপাশি শিশুটির প্রতি সার্বণিক খেয়াল রাখেন। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের পরম মমতা, যতেœ ও ভালোবাসায় শিশুটি এখন প্রাণোচ্ছ্বল। তার কচি মুখে ফুটেছে হাসি।

রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে আদালত থেকে শিশুটিকে আজিমপুরের ‘ছোটমণি নিবাস’ এ পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী শিশুটিকে সন্ধ্যায় সেখানে পাঠানো হয়েছে।

Daily Amar bangladesh

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *